Headlines

স্কুলের কক্ষে ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ! গ্রেফতার অভিযুক্ত, চাবি পেল কীভাবে—উঠছে বড় প্রশ্ন

শ্রীনগর থানার অন্তর্গত আনন্দনগর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে এক নাবালিকাকে প্রায় ছয় ঘণ্টা একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক রাহুল সাহাকে গ্রেফতার করেছে শ্রীনগর থানার পুলিশ। তবে ঘটনার পাশাপাশি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিদ্যালয়ের চাবি অভিযুক্তের হাতে গেল কীভাবে?অভিযোগ অনুযায়ী, আনন্দনগর ৪ নম্বর পাড়ার বাসিন্দা রাহুল সাহা দীর্ঘদিন ধরে ওই নাবালিকা ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করত। এমনকি নাবালিকার মা-বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নাবালিকার দাবি, ঘটনার দিন তাকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালানো হয়।ঘটনার পর নাবালিকা ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নং–১৬ রুজু করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর 65(1) ও 351(2) ধারা এবং পকসো আইন, ২০১২-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছেন শ্রীনগর থানার এসআই সূর্য দেববর্মা।পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত রাহুল সাহাকে আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হবে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এদিকে ঘটনাকে ঘিরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিদ্যালয়ের এক ক্লার্ক অভিযুক্তের হাতে স্কুলের চাবি তুলে দিয়েছিলেন। যদি সেই দাবি সত্য হয়, তাহলে কী কারণে এবং কোন নিয়মে একজন বহিরাগত বা ছাত্রের হাতে বিদ্যালয়ের চাবি দেওয়া হলো, তা নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকার মানুষ।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনন্দনগর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *