কৈলাশহর, ১৬ জুন: উনকোটি জেলার ফটিকরায় বিধানসভার অন্তর্গত কাঞ্চনবাড়ির বলাইবাজার এলাকায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জলাশয় সংস্কার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সরজমিনে পরিদর্শনে যান মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকরা এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।জানা গেছে, মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে প্রায় দুই হেক্টর জায়গাজুড়ে জলাশয় সংস্কারের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজের দায়িত্বে রয়েছেন ঠিকাদার নির্মল দাস। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয় একাংশের বাসিন্দারা প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে শুরু করেন।পরবর্তীতে সিপিআইএমের পক্ষ থেকেও একটি প্রতিনিধি দল এলাকা পরিদর্শন করে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে একই অভিযোগ সামনে আনে। বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।এই পরিস্থিতিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে মৎস্য দপ্তরের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বলাইবাজার এলাকায় পৌঁছে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা।পরিদর্শনকারী দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য দপ্তরের জয়েন্ট ডাইরেক্টর সুজিত সরকার, উনকোটি জেলার মৎস্য আধিকারিক তারেন্দ্র দেববর্মা, দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ দাস এবং মানিক দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান শেলি ভট্টাচার্য।পরিদর্শন চলাকালীন এলাকার বাসিন্দা চন্দন রায় সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তবে মৎস্য দপ্তরের জয়েন্ট ডাইরেক্টর সুজিত সরকার এবং পঞ্চায়েত প্রধান শেলি ভট্টাচার্য ওই অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।তাঁদের বক্তব্য, প্রকল্পের কাজ সরকারি নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। অভিযোগের আড়ালে রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিরও চেষ্টা চলছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ফলে জলাশয় সংস্কার প্রকল্পকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আপাতত থামছে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
৩২ লক্ষ টাকার জলাশয় সংস্কার ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ, বলাইবাজারে সরজমিনে মৎস্য দপ্তরের পরিদর্শন
