উদয়পুর মহকুমা শহর থেকে গ্রামাঞ্চল—সব জায়গাতেই ক্রমশ বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা। একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্থিক অনটন ও নেশার টাকা জোগাড় করতেই বহু যুবক অপরাধের পথে ঝুঁকছে। পাশাপাশি চুরির ঘটনার পর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।স্থানীয়দের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চোরদের পাকড়াও করতে ব্যর্থ হচ্ছে Kakraban Police Station। ফলে দুষ্কৃতিকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি অফিস, বিদ্যালয় থেকে সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি—কোথাও নিরাপত্তা নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।এমনই এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে কাকড়াবন থানাধীন জামজুরী রাজধনগর এলাকায়। জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে টিএসআর জওয়ান সুখেন সূত্রধরের বাড়িতে হানা দেয় চোরের দল। সেই সময় তিনি কর্মসূত্রে অমরপুরে ছিলেন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানও বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। সুযোগ বুঝে দুষ্কৃতিকারীরা বাড়ির পাশে থাকা একটি আমগাছ বেয়ে ছাদে উঠে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।অভিযোগ, চোরেরা ঠাকুরঘর থেকে আনুমানিক ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, পিতলের বাসনপত্র এবং একটি মাটির ব্যাংকে থাকা নগদ প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।ঘটনার বিষয়টি প্রথম নজরে আসে প্রতিবেশী রতন সূত্রধরের। তিনি নিজের বাড়ির ছাদ থেকে দরজা খোলা দেখতে পেয়ে সুখেন সূত্রধরকে খবর দেন। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে এসে চুরির ঘটনা জানতে পারেন। এরপর এলাকাবাসীর সহায়তায় কাকড়াবন থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।তবে এলাকাবাসীর একাংশের আশঙ্কা, অতীতের বহু ঘটনার মতো এই ঘটনাও তদন্তের গতি হারিয়ে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকবে কিনা। তাদের দাবি, দ্রুত চোরদের গ্রেফতার করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনায় পুলিশ কতটা সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয় কিনা।
উদয়পুরে বাড়ছে চুরির আতঙ্ক! টিএসআর জওয়ানের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি, ক্ষোভ এলাকাজুড়ে
