আগরতলা, ১৯ জুন: ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্মী মনীষা দাসের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চলমান তদন্তে কোনোভাবেই প্রভাব ফেলতে চান না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন কলেজের সভাপতি মলয় পীট। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের ঘোষিত তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করার নির্দেশ ইতিমধ্যেই কলেজ প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি মেডিকেল কলেজের গার্লস হোস্টেলের কেয়ারটেকার মনীষা দাসের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তের স্বার্থে কলেজ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রাজ্য সরকার জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেয়। বর্তমানে সেই তদন্ত চলছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিকে কিছু স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তার জবাবে মলয় পীট বলেন, “আমাদের কর্মীরা আমাদের পরিবারের সদস্য। মনীষার মৃত্যু আমাকে ব্যক্তিগতভাবে শোকাহত করেছে। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন আমি কোনো মন্তব্য করিনি, কারণ আমি চাই না তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠুক। এমনকি ফোনেও কারও সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলিনি, যাতে নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত না হয়।”তিনি আরও জানান, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।মলয় পীট বলেন, “ত্রিপুরার তিনশোরও বেশি মহিলা আজ নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। এটি আমাদের অন্যতম বড় সাফল্য। নারীদের যোগ্যতা নিয়ে যারা কটাক্ষ করেন, তাদের বলতে চাই—এই নারীরাই আগামী দিনে সমাজ ও বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবেন। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনবেন।”তিনি জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তিনি নিজে মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পাশে দাঁড়াবেন।
মনীষা দাসের মৃত্যুর তদন্তে প্রভাব নয়, পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের
