আগরতলা: স্মার্ট মিটার, বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মানিক দে। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, স্মার্ট মিটার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এখনও সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।মানিক দের অভিযোগ, আগে বিদ্যুৎ নিগমের কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারদের মাধ্যমেই মিটার বসানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি মেরামতের কাজ করা হতো। বর্তমানে স্মার্ট মিটার সরবরাহ, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার উপর নির্ভরতা বাড়ছে। ভবিষ্যতে মিটারে সমস্যা দেখা দিলে বা কোনও সংস্থা চুক্তি শেষ করে চলে গেলে সেই দায়িত্ব কে নেবে, তা সরকারকে স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, একই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও পুরনো মিটারের তুলনায় স্মার্ট মিটারে বেশি বিল আসছে বলে বহু গ্রাহক অভিযোগ করছেন। মিটার রিডিং, বিল নির্ধারণের পদ্ধতি এবং গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।স্মার্ট প্রযুক্তির বিরোধিতা নয়, তবে প্রযুক্তির নামে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো যাবে না—এমনটাই বক্তব্য মানিক দের। তাঁর দাবি, স্মার্ট মিটার নিয়ে মানুষের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করা উচিত।বিদ্যুৎ ব্যবস্থার লোকসানের জন্য টেকনিক্যাল ও কমার্শিয়াল লস, বিদ্যুৎ চুরি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল আদায়ে ব্যর্থতাকেও দায়ী করেন প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই সমস্যাগুলি সমাধান করা গেলে সাধারণ মানুষের উপর বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চাপ কমানো সম্ভব।এদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নেওয়া কম্বাইন্ড সাইকেল প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় পরও প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়া নিয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন মানিক দে।পাশাপাশি বিদ্যুৎ নিগমকে দুর্বল করে ধীরে ধীরে বেসরকারি সংস্থার হাতে পরিষেবা তুলে দেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তারও বিরোধিতা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যুৎ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। তাই মুনাফার পরিবর্তে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা দরকার।
স্মার্ট মিটার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব মানিক দে, বেসরকারিকরণ রুখতে সওয়াল
