উদয়পুর শহরের নেতাজি সুভাষ ব্রিজ সংলগ্ন এগ্রিকালচার চৌমুহনী এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি সবিতা সাহার পরিবার। দুর্ঘটনায় পরিবারের এক সদস্যকে হারানোর পাশাপাশি বসতবাড়িও ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁর ছেলে রাজু সাহা ও পরিবারের সদস্যরা।ঘটনাটি ঘটে গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে। আনুমানিক রাত ১০টা নাগাদ একটি দ্রুতগামী ভারী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এগ্রিকালচার চৌমুহনী এলাকার একটি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সেই সময় ঘরের ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা প্রায় ৬০ বছর বয়সি সবিতা সাহা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা যান।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সুপার ড. কিরণ কুমার কে, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাঞ্জলী রায়, মহকুমা শাসক ত্রিদীপ সরকারসহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাঁচানো যায়নি সবিতা সাহাকে।তবে দুর্ঘটনার ছয় মাস পরও স্থায়ী পুনর্বাসন বা পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে পরিবারটি। নিহতের ছেলে রাজু সাহার দাবি, দুর্ঘটনার পর মন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়, কিল্লা-বাগমা বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, স্থানীয় প্রধান রিতা ভৌমিক ও শক্তিকেন্দ্রের ইনচার্জের কাছ থেকে মিলিয়ে মোট ১০ হাজার টাকা এককালীন সাহায্য পেয়েছিলেন তাঁরা। এরপর আর কোনও সরকারি সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁর।বসতবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি টিন ও বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঘরে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে বসবাস করছেন রাজু সাহা। তাঁর দাবি, ভয়াবহ সেই রাতের স্মৃতি এখনও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে রাস্তার পাশের অস্থায়ী আশ্রয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে পরিবারকে।এদিকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকের বিমা সংস্থার সঙ্গে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরিবারটির দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।রাজু সাহাদের আবেদন, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসন দ্রুত তাঁদের পাশে দাঁড়াক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা এবং একটি স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হোক—এই দাবিই এখন পরিবারের
ছয় মাস পরও ঘরহারা রাজু সাহার পরিবার, দুর্ঘটনায় মা হারিয়ে অনিশ্চয়তায় দিনযাপন
