Headlines

মাছের জালে বিষধর কেউটে! গ্রামবাসীদের সচেতনতায় রক্ষা পেল বিরল প্রাণ

কৈলাসহরের গৌরনগর আর.ডি. ব্লকের অন্তর্গত লাঠিয়াপুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খিলেরবন্ধ এলাকায় মাছ ধরার জালে আটকে পড়া একটি বিষধর সাপকে উদ্ধার করে মানবিকতার নজির গড়লেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। আতঙ্ক ছড়ালেও সাপটিকে না মেরে উদ্ধারকারী দলের হাতে তুলে দেওয়ায় এলাকাজুড়ে প্রশংসার ঝড় উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর এক মৎস্যজীবী জলাশয়ে পাতা জাল তুলতে গিয়ে দেখতে পান, মাছের পরিবর্তে জালে জড়িয়ে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি বিষধর সাপ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে গ্রামবাসীরা সচেতনতার পরিচয় দিয়ে সাপটিকে আঘাত না করে কুমারঘাটের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা সংস্থা ‘এনিমেল এইড অ্যালায়েন্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-কে খবর দেন।খবর পেয়ে ডা: গৌতম মল্লিকের নেতৃত্বে সুরজ মালাকার, অনুপ দেবনাথ, মৃদুল ঘোষ, প্রদীপ দেবনাথ, সাগর দেবনাথ ও রাহুল দেবসহ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জাল কেটে সাপটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সাপটি একটি মারাত্মক বিষধর ‘মনোক্লেড কোবরা’ বা কেউটে সাপ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। জালে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় সাপটি সামান্য আহত হয়েছিল বলে জানা গেছে।ঘটনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ডা: গৌতম মল্লিক বলেন, “বন্যপ্রাণী আমাদের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়লে তাকে না মেরে বনদপ্তর বা উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত।” তিনি আরও জানান, বনদপ্তরের সহযোগিতায় উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর পুনরায় প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৈলাসহর মহকুমা বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি সংস্থা যেখানে বন্যপ্রাণী রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, সেখানে বনদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না। পাশাপাশি বনাঞ্চল ধ্বংস, অবৈধ বালি পরিবহন, কাঠ চোরাচালান এবং বেআইনি ফার্নিচারের দোকান গজিয়ে ওঠার মতো ঘটনাতেও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *