নিজস্ব প্রতিনিধি, অমরপুর, ১৬ জুনঃ অমরপুর নগর পঞ্চায়েত এলাকায় তীব্র পানীয় জলের সংকটকে কেন্দ্র করে জনমনে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে জল সরবরাহ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং বারবার পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অমরপুর DWS দপ্তরের সাব-ডিভিশনাল অফিসার (SDO) হিসেবে সুভাষ চাকমা প্রায় ১২ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়েও পানীয় জল পরিষেবার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন একাংশের বাসিন্দারা।অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরেই নিয়মিত বিরতিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। কখনও পাম্প বিকল হওয়া, কখনও পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, আবার কখনও নদীর জলস্তর কমে যাওয়ার মতো কারণ দেখিয়ে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই থেকে গেছে। ফলে পানীয় জলের জন্য চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।এই বিষয়ে DWS দপ্তরের SDO সুভাষ চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্যার জন্য রাজ্য সরকার এবং ত্রিপুরা আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (TUDA)-এর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। তাঁর দাবি, পাইপলাইন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় বহু কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি TUDA-র বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে একাধিকবার পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।অন্যদিকে, স্থানীয় বিধায়ক রঞ্জিত দাস এবং অমরপুর নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন সমস্যার সমাধানে একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে জনসাধারণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।এখন অমরপুরবাসীর একটাই প্রশ্ন— প্রতিশ্রুতি আর দায় চাপানোর রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে কবে মিলবে স্থায়ী সমাধান? নিত্যপ্রয়োজনীয় পানীয় জলের সংকট থেকে কবে মুক্তি পাবে অমরপুর?
“অমরপুরে পানীয় জলের হাহাকার, ১২ বছরের অব্যবস্থাপনায় প্রশ্নের মুখে DWS!”
