উদয়পুর: গোমতী জেলার মহারানী কোয়ার্টার কমপ্লেক্স এলাকায় প্রণজিৎ পাল (২৭) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার সকালে মহারানী ফাঁড়ির পুলিশ তাঁর দেহ উদ্ধার করে। পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই ঘটনা বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের।পরিবারের সদস্যদের দাবি, রবিবার রাতে লক্ষ্মীপুজোর পর প্রণজিৎ নিজেই রান্না করে পরিবারের সদস্যদের খাওয়ান। এরপর নিজের ঘরে ঘুমাতে যান তিনি। সোমবার সকালে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জানালা ভেঙে ঘরের ভিতরে তাকান। তখনই তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহারানী ফাঁড়ির পুলিশ। পরে গোমতী জেলা ফরেনসিক বিভাগের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোমতী জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।মৃতের পরিবারের অভিযোগ, প্রণজিৎ ও তাঁর স্ত্রী রূপা চক্রবর্তী প্রেমের সম্পর্কের পর সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের প্রায় চার বছরের দাম্পত্য জীবন ছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে তাঁদের মধ্যে অশান্তি চলছিল বলে দাবি পরিবারের।পরিবারের অভিযোগ, রূপা চক্রবর্তীর সঙ্গে মহারানী এলাকার রাজীব পাল নামে এক যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত হয়। তাঁদের দাবি, গত ১৮ অক্টোবর রাজীবের ফোন আসাকে কেন্দ্র করে প্রণজিৎ ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রূপা বাপের বাড়িতে চলে যান বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে পারিবারিক অশান্তির কারণে প্রণজিৎ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে যাঁদের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।তবে যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের তরফে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে।
উদয়পুরে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, পারিবারিক অশান্তির অভিযোগ পরিবারের
