সোনামুড়া, ১৫ জুনঃ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বেহাল অবস্থা ঘিরে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে ঝড়ে কেন্দ্রটির ঘরের চাল উড়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান চলছে সোরামনি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে।সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের ঠাকুরমুড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের সোরামনি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়মিত প্রায় ১৬ থেকে ১৭ জন শিশু শিক্ষা গ্রহণ করে। কিন্তু ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের টিনের চাল যেকোনও সময় খুলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষিকা ও অভিভাবকরা। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষিকা অভিভাবকদের জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি শিশুদের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে পারবেন না।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার, সিডিপিও অফিস, সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।কেন্দ্রটির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে শিশুদের জন্য নির্ধারিত পুষ্টিকর খাবারও সেখানে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পাশের একটি বাড়িতে রান্না করে সেই খাবার এনে শিশুদের পরিবেশন করা হচ্ছে। এছাড়াও ঝড়-বৃষ্টির সময় শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবও প্রকট হয়ে উঠেছে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ পরিবাহী একটি ক্যাবল কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত ছাদের ওপর নেমে এসেছে, যা যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এতে শিশু, শিক্ষিকা এবং কর্মীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এবং শিশুদের স্বার্থে সোরামনি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। সাম্প্রতিক ঝড়ের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
“ঝড়ে উড়েছে অঙ্গনওয়াড়ির চাল, মৃত্যুফাঁদের নিচেই চলছে পাঠদান! আতঙ্কে শিশু ও অভিভাবক”
