ধর্মনগর, ১৮ জুন:২০১০ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের টেট (Teacher Eligibility Test) পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে উত্তর ত্রিপুরা জেলা শাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি প্রদান করেছে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ, ত্রিপুরা প্রান্ত।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ২৯ মে সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও টেট উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত বহু শিক্ষকের চাকরি ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি সংগঠনের।এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার উত্তর ত্রিপুরা জেলা শাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয়। স্মারকলিপিতে ২০১০ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তোলা হয়েছে।এদিন জেলা শাসকের কার্যালয়ের সামনে সংগঠনের সদস্যরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান-বিক্ষোভে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে কেন্দ্র সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, আসন্ন সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন ও বিবেচনার জন্য তারা কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।জেলা শাসক অনুপস্থিত থাকায় স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা শাসক বিজয় সিনহা। ডেপুটেশনে নেতৃত্ব দেন জেলা টেট আন্দোলন কমিটির সমন্বয়ক তথা ধর্মনগর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ মৌসুম ভট্টাচার্য।শিক্ষকদের দাবি ঘিরে রাজ্যের শিক্ষা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন কেন্দ্র সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার।
টেট থেকে অব্যাহতির দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন জোরদার, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি
