Headlines

মুখ বাঁধা, গলায় পাথর ঝুলিয়ে খুন! ১৩ দিনেও অধরা অভিযুক্ত, স্বাগত ঘোষ হত্যাকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিতে পরিবারের আর্তনাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঞ্চনবাড়ি:ফটিকরায় থানাধীন কাঞ্চনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় গৃহশিক্ষক স্বাগত ঘোষ ওরফে সাগর (২৮)-এর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য এখনও অব্যাহত। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর জলাশয় থেকে তার মুখ বাঁধা ও গলায় ভারী পাথর ঝুলানো মৃতদেহ উদ্ধার হলেও, ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে। এরই মধ্যে ঘটনার সিবিআই তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে নিহতের পরিবার।পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চনবাড়ির বাসিন্দা স্বাগত ঘোষ ছিলেন উচ্চশিক্ষিত যুবক। তিনি বিএসসি, এমএসসি এবং বিএড ডিগ্রি অর্জন করলেও সরকারি চাকরি না পেয়ে বাড়িতে টিউশনি করিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৩ জুন নিজের মোটরবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।পরবর্তীতে ৫ জুন, কুমারঘাট থানার অন্তর্গত ভাটি দুধপুর এলাকার একটি জলাশয়ে এক যুবকের মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুমারঘাট ও ফটিকরায় থানার পুলিশ যৌথভাবে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে সেটি স্বাগত ঘোষের বলে শনাক্ত করা হয়।মৃতদেহ উদ্ধারের সময় যে দৃশ্য সামনে আসে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। স্বাগতের মুখ ও গলা শক্তভাবে বাঁধা ছিল এবং গলায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের একটি পাথর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং ৬ জুন তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।ঘটনার তদন্তে পুলিশ ডগ স্কোয়াড নামালেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, এতদিন পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো সাফল্য না পাওয়ায় প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।মঙ্গলবার কাঞ্চনবাড়িতে নিজ বাসভবনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের মা শিপরা গুপ ঘোষ এবং ছোট ভাই সম্রাট ঘোষ। পরিবারের এই কঠিন সময়ে পাশে নেই স্বাগতের বাবা সতিন্দ্র ঘোষ। তিনি বর্তমানে কর্মসূত্রে কুয়েতে অবস্থান করছেন। প্রবাসে থেকেও ছেলের হত্যার বিচার পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন তিনি।পরিবারের দাবি, স্বাগত ঘোষ ছিলেন বাড়ির একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তাকে হারিয়ে পরিবারটি আজ চরম আর্থিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তারা সরাসরি সিবিআই তদন্তের দাবি জানান এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন, যাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টির ওপর নজর দিয়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *