কমলাসাগর ভাদ্র মেলায় সুজিতা দাস খুনের ঘটনায় তদন্তে নতুন করে তৎপর মধুপুর থানার পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া নয়ন নমকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ ও ফরেনসিক দল। কীভাবে এবং কোন অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া বলে জানা গেছে।ঘটনার সূত্রপাত কমলাসাগর ভাদ্র মেলাকে ঘিরে। অভিযোগ, ওএনজিসি প্রথম গেট এলাকার বাসিন্দা বিবাহিতা সুজিতা দাসের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল প্রীতম নমের। দু’জনেরই সংসার ও সন্তান রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।অভিযোগ, ঘটনার দিন প্রীতম নম সুজিতাকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসেন। একই সময়ে মেলায় একটি দোকান নিয়ে ব্যবসা করছিলেন প্রীতমের বাবা সনজিৎ নম ও ভাই নয়ন নম। প্রীতমকে সুজিতার সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, বচসার একপর্যায়ে প্রীতম ও তার বাবা সনজিতের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তখন নয়ন বাবাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় সুজিতা তাদের দিকে এগিয়ে এলে নয়ন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে একটি ছুরি নিয়ে তার গলায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ।রক্তাক্ত অবস্থায় কসবা ইকো পার্কের সামনে পড়ে যান সুজিতা। পরে তাঁকে মধুপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।ঘটনার পর গভীর রাতে হাপানিয়া হাসপাতাল থেকে নয়ন নমকে গ্রেফতার করে মধুপুর থানার পুলিশ। রবিবার দুপুরে মৃতার মা গৌরী দাসসহ পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে সনজিৎ নম ও নয়ন নমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।এরপর গ্রেফতার নয়নকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মধুপুর থানার তদন্তকারী দল ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছিল, কোথায় দাঁড়িয়ে হামলা চালানো হয়েছিল এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।এদিকে রবিবার নয়ন নমকে বিশালগড় মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। ঘটনায় আরও কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুজিতা দাস খুনের পুনর্নির্মাণ! ধৃত নয়নকে নিয়ে ঘটনাস্থলে মধুপুর পুলিশ, আদালতে রিমান্ডের আবেদন
