Headlines

স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও শিশুকে আটকে রাখার অভিযোগ, আমতলী থানায় গৃহবধূর আর্তি

পশ্চিম ত্রিপুরার আমতলী থানার অন্তর্গত কুলতলী মতিনগর এলাকায় এক গৃহবধূর ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং তার দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে জোরপূর্বক আটকে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতিতা গৃহবধূ ও তাঁর মা অভিযুক্ত স্বামী এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে।অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে তেলিয়ামুড়ার বাসিন্দা রুকিয়া বেগম তাঁর মেয়ে হোসেনা বেগমের বিয়ে দেন কুলতলী মতিনগরের বাসিন্দা শাকিল মিয়ার সঙ্গে। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। নির্যাতিতার দাবি, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী অবৈধ নেশার কারবারের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি পরিবারকে জানাতে চাইলে বুধবার স্বামী শাকিল মিয়া ও শাশুড়ি নূর ভানুর বিরুদ্ধে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। অসুস্থ মেয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁর মা রুকিয়া বেগমকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।নির্যাতিতার আরও দাবি, অভিযুক্তরা তাঁদের দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে জোরপূর্বক নিজেদের কাছে আটকে রাখেন। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় মা ও মেয়ে আমতলী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান।অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের দাবি। অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই শিশুটিকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। যদিও বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটিকে থানায় এনে মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল বলে পরিবারের দাবি, কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় নির্যাতিতা ও তাঁর মা সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হন।তাঁরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দেড় বছরের শিশুকন্যাটিকে দ্রুত উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজ্য শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশন এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।এ বিষয়ে আমতলী থানার পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *