ধর্মনগর: পুজো ও আনন্দমেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে ধর্মনগরের বিবিআই (BBI) ও ডিএনভি (DNV) খেলার মাঠের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, পুজোর প্যান্ডেল তৈরির পর মাঠে লোহার কাঠামো, গর্ত, মদের বোতল ও আবর্জনা পড়ে থাকায় সমস্যায় পড়ছেন খেলোয়াড়, শিশু-কিশোর এবং সাধারণ মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, পুজোর অনুমতি নেওয়ার সময় মাঠ পরিষ্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। ফলে সীমিত খেলার মাঠগুলির পরিবেশ ও পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় মাঠ পরিষ্কারের জন্য স্থানীয়দেরই উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।উল্লেখ্য, স্থানীয়দের দাবি, ২০২৩ সাল থেকে তৎকালীন ধর্মনগরের বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রয়াত বিশ্ববন্ধু সেন এই দুই মাঠে পুজোর প্যান্ডেল তৈরির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তবে এ বছর ফের মাঠ দুটিতে পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারা এবং কী পরিস্থিতিতে এই অনুমতি দিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রীড়াপ্রেমী ও অভিভাবকদের একাংশ।তাঁদের বক্তব্য, যুবসমাজকে নেশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হলেও খেলার মাঠের পরিবেশ নষ্ট হলে সেই উদ্যোগ ব্যাহত হবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।ইতিমধ্যেই বিবিআই ও ডিএনভি মাঠ থেকে পুজো এবং আনন্দমেলার আয়োজন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, উৎসবের আয়োজন অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে তার জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা কাম্য নয়।মাঠের সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং খেলাধুলার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের মতে, এই ইস্যু আগামী পুর পরিষদ নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, খেলার মাঠগুলিকে রক্ষা করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ধর্মনগরে খেলার মাঠে পুজোর অনুমতি ঘিরে ক্ষোভ, মাঠ নষ্টের অভিযোগ
