কৃষ্ণপুর, ৭ জুন: গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে রবিবার কৃষ্ণপুর বিধানসভা এলাকার চাকমাঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের গারো বস্তিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘উঠোনে জনগণের সঙ্গে প্রশাসন’ কর্মসূচি। বিজেপির ২৯ নম্বর কৃষ্ণপুর মণ্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী Bikash Debbarma।অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মণ্ডলের সহ-সভাপতি গোপাল দাস এবং বিজেপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে পানীয় জলের সংকট, জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট এবং বন্য দাঁতাল হাতির উপদ্রবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মন্ত্রীর নজরে আনেন গ্রামবাসীরা।এলাকাবাসীর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর মন্ত্রী জানান, সরকারের কাছে জনগণই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং মৌলিক পরিষেবার সম্প্রসারণে রাজ্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, পানীয় জল ও রাস্তাঘাট সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।মন্ত্রী আরও বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল ইতিমধ্যেই এলাকার বহু পরিবার পেয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় বহু পরিবার পাকা ঘর নির্মাণের সুযোগ লাভ করেছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত রাস্তার আলো স্থাপনের বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দেন তিনি।কর্মসূচির এক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় অংশ নেন মন্ত্রী। সেই অনানুষ্ঠানিক আলোচনায়ও উঠে আসে একাধিক স্থানীয় সমস্যা। বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেন, তাঁরা নিয়মিত ও সময়মতো রেশন সামগ্রী পাচ্ছেন না। অভিযোগ শুনেই মন্ত্রী ঘটনাস্থল থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।গারো বস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে মন্ত্রীর এই সরাসরি সংলাপ এবং সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
“উঠোনে জনগণের সঙ্গে প্রশাসন: গারো বস্তিতে চায়ের আড্ডায় সমস্যার কথা শুনলেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা”
