সাব্রুম পোস্ট অফিস সংলগ্ন সাতচাঁদ ও রুপাইছড়ি বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়কে ঘিরে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের নির্ধারিত অফিস সময় ও উপস্থিতির নির্দেশিকাকে কার্যত উপেক্ষা করেই চলছে এই দুই কার্যালয়ের কাজকর্ম।রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সরকারি দপ্তর খোলা রাখার কথা থাকলেও, বাস্তবে সাব্রুম মহকুমা বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়ের চিত্র নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বহু কর্মচারী নিজেদের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই দপ্তর ত্যাগ করেন।অভিযোগের তীর উঠেছে সাতচাঁদ বিদ্যালয় পরিদর্শক ইরনজয় রিয়াং-এর দিকেও। অভিযোগ, তিনি মাসে খুব কম দিন অফিসে উপস্থিত থাকেন। কখনও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়ে বৈঠক, কখনও আগরতলায় শিক্ষা গবেষণা পর্ষদের মিটিং কিংবা বিদ্যালয় পরিদর্শনের কথা বলে অফিসে অনুপস্থিত থাকেন বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।এদিকে, সাংবাদিকরা সাতচাঁদ ডেপুটি বিদ্যালয় পরিদর্শক ড্যানিয়েল রিয়াং-এর কাছে কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ। তবে একই কার্যালয়ের কর্মচারী মানিক চক্রবর্তী ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেন যে, ছয়জন কর্মচারী প্রায়শই বিকেল চারটার মধ্যেই অফিস ছেড়ে চলে যান।অন্যদিকে, একই ভবনে অবস্থিত রুপাইছড়ি বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়েও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। ক্যাশ সেকশনের কর্মী শুভম মল্লিক নাকি বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যেই কাউকে কিছু না জানিয়ে অফিসে তালা লাগিয়ে চলে যান। সুমন দাস নামে এক কর্মচারীর দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির অভিযোগও উঠে এসেছে, যার প্রমাণ হিসেবে উপস্থিতি খাতার তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়াও বিজন চন্দ্র নাথ নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে দক্ষিণ জেলার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে অফিস ত্যাগ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট দিনে তিনি সেখানে যাননি। শং রিয়াং-এর বিরুদ্ধেও নিজের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। রুপাইছড়ি ডেপুটি বিদ্যালয় পরিদর্শক নন্দলাল দাস ক্যামেরার সামনে কিছু অনিয়মের বিষয় স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষা দপ্তর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করলে বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়ের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ্যে চলে আসবে।
সরকারি নির্দেশে ‘কলাপাতা’? সাব্রুম বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়ে অফিস ফাঁকির বিস্ফোরক অভিযোগ!
