আগরতলা, ১৩ জুন: পূর্ব সিমনা এডিসি ভিলেজের ভুবন চৌধুরী পাড়ায় ফের ভাল্লুকের হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে। শনিবার ৬০ বছর বয়সি ললিত দেববর্মা নামে এক ব্যক্তি ভাল্লুকের আক্রমণে গুরুতর জখম হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুবন চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা ললিত দেববর্মাকে আচমকাই আক্রমণ করে একটি বুনো ভাল্লুক। হামলায় তার বাঁ পায়ের উপরের অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ভাল্লুকটি মাংস ছিঁড়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।ঘটনার পরপরই বিএসএফ জওয়ানদের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত কাতলামারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ক্ষতস্থানে আট থেকে দশটি সেলাই করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আগরতলায় পাঠানো হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ভাল্লুকটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দারোগামুড়া, শরৎ চৌধুরী পাড়া এবং দাঁইগ্যা বাড়ি এলাকায় বিচরণ করছে। বিশেষ করে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় রাতের বেলায় প্রায়ই এটিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়।উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় এক মাস আগে দাঁইগ্যা বাড়ি এলাকার এক মহিলাকেও একই ভাল্লুক আক্রমণ করেছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। গুরুতর জখম হওয়ার পর তিনি এখনও শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দা রাকেশ দেববর্মা অভিযোগ করেন, একাধিকবার বনদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হলেও ভাল্লুকটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “বনদপ্তরের গাফিলতির কারণেই বারবার সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। আহত ব্যক্তির চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকার ও বনদপ্তরকে বহন করতে হবে।”তিনি আরও দাবি করেন, ভবিষ্যতে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে যদি গ্রামবাসীদের হাতে ওই ভাল্লুকটি মারা যায়, তাহলে বনদপ্তর যেন কোনো গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা না করে।একের পর এক হামলার ঘটনায় পূর্ব সিমনা ও সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই বনদপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ভাল্লুকটিকে আটক করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করুক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াক।
ফের ভাল্লুকের হামলা! পূর্ব সিমনায় গুরুতর জখম বৃদ্ধ, বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
