বিশ্রামগঞ্জ: সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। আহত শিখা চাকমা বর্তমানে জিবি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এদিকে, ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁর স্বামী রানা চাকমা।জানা গেছে, করবুক মহকুমার যতনবাড়ির বাসিন্দা শিখা চাকমা (২৮) ৩২ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। গত ২৯ জুলাই শারীরিক জটিলতার কারণে তাঁকে নতুনবাজার গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে প্রথমে অমরপুর মহকুমা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাঁপানিয়া হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়ি ফেরার পথে বিশ্রামগঞ্জ বাজার এলাকায় তাঁদের ওয়াগনার গাড়িকে একটি ম্যাক্স গাড়ি ধাক্কা দেয়।পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনায় শিখা চাকমার পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। কিন্তু ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা বিশ্রামগঞ্জ থানার কনস্টেবল হরেন্দ্র দেববর্মা আহত গর্ভবতীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পরিবর্তে উভয় পক্ষকে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দেন। এমনকি তিনি নাকি বলেন, বিশ্রামগঞ্জ থানায় গিয়ে কোনও লাভ হবে না এবং অভিযুক্ত গাড়ি ও চালককে ঘটনাস্থল থেকেই ছেড়ে দেন।পরে শিখা চাকমাকে বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতাল থেকে রাতেই জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক বলে পরিবারের দাবি।ঘটনার পর শিখা চাকমার স্বামী রানা চাকমা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়ে বলেন, দুর্ঘটনার সময় একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের প্রথম কর্তব্য ছিল আহত গর্ভবতী মহিলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তিনি কনস্টেবলের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
গর্ভবতীকে নিয়ে দুর্ঘটনা, ‘মীমাংসার চাপ’ অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে! মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
