খোয়াই: সরকারি অফিস নির্মাণের জন্য ধলাবিল চা বাগানের জমি পরিষ্কার করতে বোল্ডোজার চালিয়ে চা গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বাগানের চা শ্রমিকরা। প্রতিবাদে তাঁরা জমি পরিষ্কারের কাজ বন্ধ করে দেন।জানা গেছে, ধলাবিল চা বাগানের একটি অংশে বোল্ডোজার দিয়ে চা গাছ কাটার কাজ চলছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই কর্মরত শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজের কারণ জানতে চান। অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত এক ঠিকাদার জানান, ওই এলাকায় সরকারি অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানটি নির্বাচনের পর জমি পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।ঠিকাদারের এই বক্তব্যের পরই ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের প্রশ্ন, চা বাগানটি একটি চা শিল্প সমবায় সমিতির মাধ্যমে পরিচালিত হলেও সমিতির সভাপতি-সম্পাদক কিংবা শ্রমিকদের আগাম না জানিয়ে কীভাবে চা গাছ কাটার কাজ শুরু করা হলো?শ্রমিকদের দাবি, একসময় ধলাবিল চা বাগানের ওপর প্রায় এক হাজার শ্রমিকের পরিবার নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে বাগানের দুরবস্থার কারণে শ্রমিকের সংখ্যা কমে প্রায় দুইশতে দাঁড়িয়েছে। বাগানে থাকা চা গাছের ওপরই এখনও বহু শ্রমিকের জীবিকা নির্ভরশীল।এই পরিস্থিতিতে চা গাছ কেটে বাগানের জমি অন্য কাজে ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যতে শ্রমিকদের জীবিকা আরও সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। সরকারি প্রকল্পের জন্য জমি ব্যবহারের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতি ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।শ্রমিকরা জানান, বিষয়টি নিয়ে খোয়াই মহকুমা শাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চা গাছ কাটা ও জমি পরিষ্কারের কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধলাবিল চা বাগান এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সরকারি অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সরকারি অফিসের জন্য চা গাছ কাটার অভিযোগ, ধলাবিলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা!
