টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে খোয়াই নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলিয়ামুড়া মহকুমার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক এলাকায় নদীর জল ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন তৎপর হয়ে ৮টি আশ্রয় শিবির চালু করেছে।জানা গেছে, তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দশমীঘাট, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজিনগর, পাশাপাশি তৃষাবাড়ি, মোহরছড়া ও কল্যাণপুরের নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ায় বাসিন্দারা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদের চেয়ারম্যান রূপক সরকার এবং ডেপুটি সিইও প্রদীপ কুমার সরকার। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরপরিষদ এলাকায় ৭টি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জন্য মোহরছড়া স্কুলে ১টি আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।মহকুমাশাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন কাজ করছে। নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় শিবিরে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, দশমীঘাট এলাকার ১০ থেকে ১৫টি পরিবার শিশু মালঞ্চ স্কুলে খোলা আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
খোয়াই নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, তেলিয়ামুড়ায় বন্যার আতঙ্ক—খোলা হলো ৮টি আশ্রয় শিবির
