Headlines

তিনবার জিও ট্যাগিং, তবুও আবাসের তালিকায় নাম নেই পরিমলের!

উত্তর হুরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৫৫ বছরের পরিমল দাস। পেশায় দিনমজুর। স্ত্রী, তিন ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিসহ সাত সদস্যের সংসার তাঁর। দিনমজুরির সামান্য আয়ে সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে পাকা ঘর তৈরি করা তাঁর কাছে কার্যত অসম্ভব।অভিযোগ, পরিমল দাসের বাড়িতে তিনবার জিও ট্যাগিং হয়েছে। পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছ থেকেও মিলেছে আশ্বাস। কিন্তু কালাছড়া ব্লকের ২০২৬ সালের আবাস যোজনার খসড়া তালিকায় এখনও তাঁর নাম নেই।বর্তমানে পরিবারের আশ্রয় একটি জীর্ণ কাঁচা ঘর। টিনের ছাদজুড়ে অসংখ্য ফুটো। বৃষ্টি নামলেই ঘরের ভিতরে জল পড়ে। ঝড়-বৃষ্টির রাতে আতঙ্কে গুটিসুটি মেরে রাত কাটাতে হয় পরিবারের সদস্যদের। পাশাপাশি বাড়ির মহিলাদের এখনও ব্যবহার করতে হয় কাঁচা শৌচালয়। ফলে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য—দুই নিয়েই রয়েছে উদ্বেগ।পরিবারের বড় ছেলে বাবার সঙ্গে দিনমজুরি করে সংসারে সাহায্য করেন। মেজো ছেলে কাজের সন্ধানে ঘুরলেও নিয়মিত কাজ পান না। ছোট ছেলে কলেজে পড়াশোনা করছেন। আর্থিক সংকটের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন পরিমলবাবু।আবাস যোজনায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার তাঁর নাম বাদ পড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিমল দাস। প্রতিকারের আশায় গত ৮ আগস্ট কালাছড়া ব্লকের বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন তিনি।অভিযোগের পর প্রশাসনের তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেই অপেক্ষাতেই পরিমল ও তাঁর পরিবার। সরকারি প্রকল্পের তালিকায় নাম ওঠার পাশাপাশি কবে মাথার ওপর একটি পাকা ছাদ ও নিরাপদ শৌচালয় মিলবে—সেই আশায় দিন গুনছে পরিবারটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *