আগরতলা, নিজস্ব প্রতিনিধি:আগরতলা রেলস্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ এসকফ ও ফেয়ারডিল কফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি বড় মাদক পাচার চক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।গত ২ জুলাই ২০২৬ সকালে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই), রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ), স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং আসাম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে পশ্চিম ত্রিপুরার আমতলী থানাধীন আগরতলা রেলস্টেশন থেকে সুব্রত দেব (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, তিনি খোয়াই জেলার কল্যাণপুর থানার বাথাখা এলাকার বাসিন্দা এবং আগরতলার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।অভিযানে তার কাছ থেকে প্রায় ৫৫,৬২৬ বোতল এসকফ ও ফেয়ারডিল কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ টাকা। বর্তমানে আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ডিআরআই-এর হেফাজতে রয়েছে।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে একটি বড় পাচারচক্র জড়িত থাকতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনও অন্য কোনো ব্যক্তির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন মহলে কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ঘুরে বেড়ালেও, সেসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং তদন্তকারী সংস্থাও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ কফ সিরাপ রাজ্যে আনা হচ্ছিল, এর পেছনে কারা মূল পরিকল্পনাকারী এবং কোনো আন্তঃরাজ্য বা সীমান্তভিত্তিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল পাচারচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রধান লক্ষ্য।
আগরতলা রেলস্টেশনে ৬.৫৪ কোটি টাকার কফ সিরাপ উদ্ধার, মূল পাচারচক্রের খোঁজে জোর তদন্ত
