ধর্মনগর, ২১ আগস্ট: বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য, অতিরিক্ত ডিউটি ও ফিক্সড চার্জ এবং প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চালুর প্রতিবাদে শুক্রবার সরব হলেন ধর্মনগরের বিদ্যুৎ গ্রাহক ও কর্মীরা। বিদ্যুৎ গ্রাহক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে হাফলংয়ের যুবরাজনগর সাব-ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার সঞ্জীব দাশগুপ্তের কাছে স্মারকলিপি সহ ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়।সমিতির অভিযোগ, বিদ্যুৎ পরিষেবার ওপর একের পর এক শুল্ক ও চার্জের বোঝা চাপানো হচ্ছে। ডিউটি চার্জ, ফিক্সড চার্জ এবং লোড অ্যাসেসমেন্টের নামে সাধারণ গ্রাহক থেকে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।নতুন ট্যারিফ ব্যবস্থা এবং প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। গ্রাহকদের মতামত ও স্বার্থ বিবেচনা না করে কোনও ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলে দাবি তাঁদের। সময়ভিত্তিক ট্যারিফ চালু হলে বিদ্যুৎ বিল আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।এর পাশাপাশি বিদ্যুৎকর্মীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি, পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্র বেসরকারিকরণের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাঁদের দাবি, বিদ্যুৎকর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরিষেবা সচল রাখলেও তাঁদের ন্যায্য দাবিগুলি উপেক্ষিত হচ্ছে।ডেপুটেশনে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, অযৌক্তিক লোড চাপানো বন্ধ, স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর গ্রাহক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে গ্রাহকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সমিতি।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ধর্মনগর মহকুমা সম্পাদক অজয় দেব, সভাপতি সুভাষ রায়, ধর্মনগরের প্রাক্তন বিধায়ক অমিতাভ দত্তসহ বহু সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহক।ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এবার গ্রাহক ও কর্মীদের এই ডেপুটেশনের পর বিদ্যুৎ দপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
স্মার্ট মিটার ও বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মনগরে ডেপুটেশন
